বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠানে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই দীর্ঘমেয়াদি দলিল উন্মোচন করেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'জনতার ইশতেহার'। এটি 'একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ' গড়ার স্লোগানে উপস্থাপিত হয়েছে এবং মোট ৪১ দফায় বিভক্ত, যার মধ্যে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারটি জুলাই আন্দোলনের আদর্শ, রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দল দাবি করেছে যে এটি সারাদেশের লাখ লাখ মানুষের মতামত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে যুবকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তি (ক্যাবিনেটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি), প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ, দুর্নীতিমুক্ত সরকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সর্বজনীন অ্যাক্সেস, সামাজিক নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দল ২০৪০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট উৎপাদন, আইসিটি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশ নীতিতে ভারতের সাথে 'সম্মানজনক ও ন্যায্য' সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দলের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কর্মঘণ্টা কমানো এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার মতো প্রস্তাবও রয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণার পর জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন জেলায় জনসভা, রোডশো, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে ইশতেহারের মূল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে যুবক ও নারীদের মধ্যে। অন্যদিকে কিছু সমালোচক বলছেন যে এতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অর্থায়নের পরিকল্পনা কম, যা বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবু এই ইশতেহার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জামায়াতের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং অন্যান্য দলের সাথে তুলনামূলক আলোচনা বাড়িয়েছে।