অনলাইন ক্লাসের চ্যাটবক্সে টাইপো করে ‘ভালোবাসি’ লিখে ফেলা – সেই ভুল থেকে রিয়েল লাইফ প্রেম ও বিয়ে
Md Ramjanul Kabir Shaharear
•Feb 7, 2026
Share:
অনলাইন ক্লাসের চ্যাটবক্সে টাইপো করে ‘ভালোবাসি’ লিখে ফেলা – সেই ভুল থেকে রিয়েল লাইফ প্রেম ও বিয়ে
২০২০ সালের লকডাউনের সময়, যখন সবকিছু অনলাইনে চলছিল, ২২ বছর বয়সী ফারিয়া সুলতানা একটি অনলাইন ইংরেজি ক্লাসে যোগ দিয়েছিলেন। ক্লাস চলাকালীন টিচার একটা প্রশ্ন করেন: “যদি তোমরা কাউকে ভালোবাসো, তাহলে কীভাবে বলবে?” ফারিয়া চ্যাটবক্সে টাইপ করতে গিয়ে ভুল করে লিখে ফেলেন “ভালোবাসি” এবং এন্টার চেপে দেন। মুহূর্তের মধ্যে সবার স্ক্রিনে তার মেসেজ দেখা যায়।
ফারিয়া লজ্জায় মুখ লাল করে টিচারকে বলেন, “সরি, টাইপো হয়ে গেছে!” কিন্তু ক্লাসের এক ছেলে, ২৪ বছর বয়সী জাহিদ হাসান, প্রাইভেট চ্যাটে মেসেজ করে: “টাইপো না হলে কি সত্যি বলতে চেয়েছিলে?” ফারিয়া প্রথমে অস্বস্তি বোধ করেন এবং লিখেন, “না না, ভুল হয়েছে। আমি বলতে চেয়েছিলাম ‘ভালো লাগে’ বা কিছু এরকম।” জাহিদ হেসে উত্তর দেন, “আমি তো ভাবলাম ক্লাসের মাঝে কনফেশন হয়ে গেল। কিন্তু টাইপো হলেও খুব কিউট লাগলো।”
সেই থেকে শুরু হয় তাদের কথা। প্রথমে শুধু ক্লাসের টপিক, তারপর পড়াশোনার বাইরে গল্প। ফারিয়া বলেন, “আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছিলাম। কিন্তু জাহিদের রিপ্লাই দেখে মনে হলো সে আমাকে জাজ করছে না।” জাহিদ উত্তর দেন, “আমি ভেবেছিলাম এটা একটা সিগন্যাল। আর সেই সিগন্যালটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে।”
অনলাইন ক্লাস শেষ হওয়ার পরও তাদের কথা চলতে থাকে। ভিডিও কল, লং চ্যাট, ভয়েস নোট। লকডাউনের সময় তারা একে অপরের সাপোর্ট হয়ে উঠলেন। ফারিয়া বলেন, “যে ভুলটা আমি করেছিলাম, সেটা আমাদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।” জাহিদ যোগ করেন, “আমি কখনো ভাবিনি একটা টাইপো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শুরু হবে।”
কয়েক মাস পর লকডাউন খোলার সাথে সাথে তারা প্রথম দেখা করেন। প্রথম ডেটে জাহিদ একটা কাগজে লিখে দেন: “ভালোবাসি (এবার টাইপো নয়)।” ফারিয়া হেসে বলেন, “এবার আমিও সত্যি বলছি – ভালোবাসি।”
দুই বছর পর, ২০২২ সালে জাহিদ ফারিয়াকে প্রপোজ করেন। তিনি একটা ভিডিও কল করে সেই পুরোনো চ্যাট স্ক্রিনশট দেখান এবং বলেন, “যে ভুল থেকে শুরু হয়েছিল, সেই ভুলকে আমি সারাজীবনের সঠিক করে নিতে চাই। আমার সাথে থাকবে?” ফারিয়া হ্যাঁ বলেন।
২০২৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা সেই চ্যাটের স্ক্রিনশট ফ্রেম করে রাখেন। জাহিদ বলেন, “একটা টাইপো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সঠিক শব্দ হয়ে উঠেছে।” ফারিয়া যোগ করেন, “আমি কখনো ভাবিনি একটা ভুল মেসেজ আমাকে আমার সারাজীবনের মানুষটা এনে দেবে।”
এখন তারা ঢাকায় একসাথে থাকেন। প্রতি বছর তাদের অ্যানিভার্সারিতে তারা সেই অনলাইন ক্লাসের স্ক্রিনশট দেখে হাসেন। ফারিয়া বলেন, “যে চ্যাটবক্সে ভুল হয়েছিল, সেই ভুলই আমাদের সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।” জাহিদ হেসে বলেন, “আর সেই টাইপোটা আমাদের কিউপিড হয়ে উঠেছে।”
এই গল্পটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “কখনো কখনো সবচেয়ে ছোট ভুলই সবচেয়ে বড় ভালোবাসা এনে দেয়।” ফারিয়া আর জাহিদের প্রেম এখন সবার কাছে একটা উদাহরণ – যে একটা টাইপো থেকে শুরু হওয়া প্রেম সারাজীবনের হয়ে যায়।